|
Written by Administrator
|
|
Wednesday, 19 November 2008 03:35 |
নদী ভাঙনে কুমারখালী-খোকসার পাঁচ হাজার পরিবার সর্বস্বান্ত 'হনে(ওইখানে) আমারে আট বিঘা জমি ছিলে, চাষ করে যা পাতাম তা দিয়ে পাঁচজনের সংসারে ভালোই চলতে। সাড়ে সাত বিঘা নদীর মদ্যি চলে যাওয়ায় এহন আমি পথের ফহির(ফকির)।' কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মোল্লা(৭০) হাত উঁচিয়ে গড়াই নদীর দিকে দেখিয়ে এ কথা বলেন।
একই গ্রামের ফরহাদ হোসেন বলেন, 'দু-আড়াই মাস হলে বাড়িঘর নদীতে ভাঙে নিছে ৷ এহন আমারে বাঁচে থাহাই কষ্ট হয়ে পড়েছে ৷' তাদের মতোই অবস্হা কুমারখালীর চারটি ও খোকসা উপেজলার একটি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজারপরিবারের৷ স্হনীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙনে গত এক মাসেকুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের চাপড়া, সদকী ইউনিয়নের আগ্রাকুন্ডা ও পাথরবাড়ীয়া, নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী ও এলঙ্গী আচার্য, কয়া ইউনিয়নের কয়া গ্রাম এবং খোকসার ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ও জানিপুর গ্রামের দেড়শ বিঘা ফসলি জমিসহ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৷ পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধের জন্ন ১০-১২ বছর আগে চাপড়া গ্রামে ৫০০ ফুট পর পর ২০ ফুট দীর্ঘ আটটি ঢালাই বাঁধ নির্মাণ করে ৷ এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের আরও বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের ব্যবস্হা করলে ভাঙন রোধ করাসম্ভব ৷ গত ১৩ ও ১৫ নভেম্বর চাপড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন এলাকার পূর্ব পাশে িনটি ও পশ্চিমে পাঁচটা ঢালাই বাঁধ দেওয়া আছে ৷ ঢালাই বাঁধগুলোর মাঝখানের জায়গায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি ৷ নদীর তীরে চাপড়া জামে মসিজদ, চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ৩০টি বাড়িঘর যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে ৷গ্রামের হেকমত আলী, আবুল হোসেন, হাসেন আলী, মজিদ আলীসহ বেশ কয়েকজন তাদের জমি থেকে গাছ কেটে নিচ্ছে ৷ তারা জানায়, গত ২০ দিনে তাদের প্রায় ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে ৷ ফলে ৩০টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে ৷ এখন তারা রাস্তার ধারে কিংবাআত্মীয়জনের বাড়িতে বসবাস করেছ৷ সদকী ইউনিয়নের আগ্রাকুন্ডা গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একমাত্র সম্বল ভিটেবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় পরের বাড়িতে আছি ৷’ভাঙনকবলিত এলাকার চারজন ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান, সাইদুল ইসলাম সাবদুল, শরিফুল ইসলাম ও জামিল হোসেন বাচ্চু জানান, নদীভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানানো হয়েছে ৷ কিন্তু এখনো ব্যবস্হা নেয়নি ৷কুমারখালী উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধতন কর্তৃক্ষকে জানিয়েছি ৷’কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা জরুরিভাবে ব্যবস্হা নিতে ঊর্ধতন কর্তৃক্ষকে জানিয়েছি ৷ তবে ইতিমধ্যেই খোকসায় বালুর বস্তা ফেলে ও বাঁশের পাইলিং করে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে ৷’ -দীপু মালিক, কুমারখালী, প্রথম আলো, বুধবার ১৯ নভেম্বর ২০০৮, বর্ষ ১১, সংখ্যা ১৬
|
|
Last Updated on Sunday, 14 December 2008 01:22 |