কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয় PDF Print E-mail
Written by Administrator   
Sunday, 19 October 2008 00:25

অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম - কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়

Kumarkhali Girls Schoolউপমহাদেশের বাঙ্গালী নারী জাগরনের অন্যতম পথিকৃত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দে নদীয় জেলা শহর কৃষ্ণনগরে প্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তারও পূর্বে কলিকাতা শহরে ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে বৃটিশ শিক্ষানুরাগী ড্রিঙ্ক ওয়াটার বীটন তাদের মেয়েদের সাথে সাথে বাঙ্গালী মেয়েরাও যাতে ইংরেজি শিক্ষায় পারদর্শী হতে পারে এজন্য প্রথম গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ স্কুলে বাঙ্গালী মেয়েরা সংস্কৃতি, ভাষা ও সুচের কাজের অভিজ্ঞতাও অর্জন করে।


ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পর ততকালীন পাবনা জেলার মহকুমা শহর নামে খ্যাত কুমারখালীতে ১৮৬৩ খৃষ্টাব্দে কুমারখালীর কৃতি সন্তান ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম সেরা ছাত্র ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কুমারখালী মথুরানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণধন মজুমদার, অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় বালিকা বিদ্যালয়টি তাঁরই বসত বাড়ীর সম্মুখস্হ প্রঙ্গনে নিজ ব্যয়ে করগেট টিনের ঘর নির্মানে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে উক্ত বিদ্যালয়ের নাম কুমারখালী পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

১৮৬৩ খৃষ্টাব্দে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাঁরা সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিলেন তাঁরা হলেন, প্রতিষ্ঠাতার জ্যেষ্ঠ সহোদর রামধন মজুমদার ও প্রথতযশা সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সিদ্ধসাধক ও সমাজসেবী কুমারখালীর কুতি সন্তান কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। বিদ্যালয়টি পতিষ্ঠালগ্নে ছিল Donor Kumarkhali Girls Schoolনিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার অবৈতনিক প্রধান শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করতেন। সুচী কাজের শিক্ষা দিতেন একজন অভিজ্ঞ দর্জি আর রান্নার কাজ শিক্ষা দিতেন রামধন মজুমদারের স্ত্রী। কৃষ্ণধন মজুমদার মথুরানাথ সংখ্যা ছিল ৩৪ জন। ১৮৮০ খৃষ্টাব্দে কৃষ্ণধন মজুমদার পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর অগ্রজ রামধন মজুমদার নিজ ব্যয়ে আরও একটি করগেট টিনের ঘর নির্মানে অনুজ প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়টির উন্নয়নে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যহত রাখেন। তিনি আরও একজন জ্ঞানতাপস শিক্ষককে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দানে তাঁর বেতনের টাকা নিজেই বহন করতে থাকেন। কাঙাল হরিনাথ সে সময়ও অবৈতনিক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
১৮৮০ খৃষ্টাব্দে ভাগ্যক্রমে ভারতীয় প্রেসিডেন্সি বিভাগের তদানিন্তন স্কুল পরিদর্শক অত্র বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন এবং বিদ্যালয়ের ভবন, জায়গা ও ছাত্রীদের লেখাপড়ার মান দেখে সন্তুষ্ট হন। তাঁরই সুপারিশে ১৮৮০ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাস থেকেই অত্র বিদ্যালয় মাসিক বার টাকা সরকারী অনুদান প্রপ্ত হয়। যা বৃটিশ সাহায্য হিসাবে এক গৌরবজ্জল ইতিহাস হিসাবে স্মরনীয় ঘটনা।

১৮৮৭ খৃষ্টাব্দে রামধন মজুমদার পরলোক গমন করলে সম্পাদকের দায়িত্ব অধিষ্টিত হন কুমারখালীর সম্ভ্রান্ত ধনী ব্যবসায়ী পূর্ণানন্দ সাহা। তখন বিদ্যালয়টির গৃহ দুইটির অবস্হা ছিল অত্যন্ত করূণ। তিনি ১৮৮৮ খৃষ্টাব্দে ব্যক্তিগত অর্থে আরও একটি গৃহ নির্মান করে দেন এবং পুরাতন গৃহ দুইটির সংস্কার করেন। তিনি বিদ্যালয়ের ব্যবহৃত জমিও বিদ্যালয়ের নামে খরিদ করে দেন। ফলে ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি শিক্ষকের সংখ্যাও বৃদ্ধি করেন। ১৮৯৪ খৃষ্টাব্দে কুমারখালী পৌরসভা(১৮৬৯ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত) অত্র বিদ্যালয়কে প্রথম মাসিক পাঁচ টাকা বরাদ্দ করেন। সে সময় বৃটিশ সরকারের বরাদ্দ মাসিক বার টাকা আর পৌরসভার বরাদ্দ মাসিক পাঁচ টাকা এই সতের টাকায় প্রতি মাসের অধিকাংশ ব্যয় নির্বাহ হতো। অবশিষ্ট ব্যয় বহন করতেন সম্পাদক পূর্ণনন্দ সাহা। তিনি নিঃস্বার্থ সমাজসেবী হিসাবে নিজ যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিচক্ষণতার সাথে সুদীর্ঘকাল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন।

১৯০৮ খৃষ্টাব্দে কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ের সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন পূর্ণনন্দ সাহার জ্যেষ্ঠ পূত্র অতুল কৃষ্ণ সাহা। তিনি ১৯১৮ খৃষ্টাব্দে ততকালীন শিক্ষা বিভাগের অনুমোদনে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মাসিক চাঁদা সহ ছাত্রীদের যতসামান্য বেতন প্রথা চালু করেন। ফলে প্রথম পর্যায়ে ছাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে তা আবার বৃদ্ধি পায়। ১৯২৪ খৃষ্টাব্দে এক প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড়ে তিনটি গৃহই বিধ্বস্ত হয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের ভাগ্যে এক বিপর্যয় নেমে আসে। তখন এ বিদ্যালয়কে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন বিশিস্ট সমাজ হিতৈষী পৌরসভার ততকালীন চেয়ারম্যান ডাঃ প্রমথনাথ চক্রবর্তী। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভুলুণ্ঠিত গৃহগুলি পূণরায় মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হয় এবং সরকার ও পৌরসভার সাহায্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে বালিকা বিদ্যালয়টি নিম্ম প্রথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে জনৈক ছাত্রী উচ্চ প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করে। ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে ছাত্রী সংখ্যা ৮০ জনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ছাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পৌরসভার চেয়ারম্যান ডাঃ প্রমথনাথ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ উক্ত জমিতে একটি বৃহত্তর দালানঘর নির্মানের কাজ শুরু করেন। যার ছাউনি টিনের হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ সংবাদ কুষ্টিয়ার ততকালীন হৃদয়বান মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট পি.ডি. মার্টিন আই.সি.এস.-এর কর্ণগোচর হলে তিনি এই কাজে বাধা প্রদান করেন। তাঁরই উতসাহ আর উপদেশে গৃহখানির ছাদ নির্মিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। যা স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সাহায্য আর সদাশয় গভর্ণমেন্টের অনুদানে সম্পূর্ণ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। বঙ্গীয় সাধারন স্বাস্থ্য বিভাগ(Bengal Public Health Dept.) পাকা গৃহের নকশা অনুমোদন করেন।

১৯৩২ খৃষ্টাব্দে কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে কুমারখালীর তিনজন কুতি সন্তান প্রতিথযশা শিক্ষাবিদ রায় বাহাদুর কুঞ্জলাল সাহা, কলিকাতা সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হেরম্ব মিত্র, সাহিত্যিক জলধর সেন ও ততকালীন মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রট হিরম্ময় বন্দোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত দানের আহ্বানপত্র এলাকায় বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিদের ঠিকানায় পাঠানো হয়। ঐ পত্রে উল্লেখ ছিল, যারা ততকালীন সর্বনিম্ম পঞ্চাশ টাকা দান করবেন তাদের নাম বিদ্যালয়ের দেওয়ালে শ্বেত প্রস্তরে লিপিবদ্ধ রাখা হবে। যারা স্বতস্ফুর্ত ভাবে পঞ্চাশ টাকা ও তদুর্দ্ধ এককালীন দান করেছেন তারা হলেন, নদীয়া জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট L. G. Dumo I.C.S ১৭৫ টাকা, T.C. Roy ৫০ টাকা, H. Boss ৫০ টাকা, কুমারখালী পৌরষভা ১৯৩০ সালে ১০০ টাকা, ১৯৩২ সালে ৫০ টাকা, ১৯৩৩ সালে ১৫০ টাকা এবং ১৯৩৪ সালে ১৫০ টাকা, কুমারখালীর কৃতি শিল্পপতি কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের স্বত্তাধিকারী গিরিজা প্রসন্ন, রমাপ্রসন্ন ও জ্ঞানদাপ্রসন্ন চক্রবর্তী ১২০ টাকা, শরত কুমার ঘোষ ১০০ টাকা, রাধা বিনোদ সাহা ২০০ টাকা, মৃত পুলিনচন্দ্র কুন্ডুর সহধর্মিনী কুমুদিনি কুন্ডু ১৮০ টাকা, লক্ষী নিরায়ন অপেরা পার্টি ৮০ টাকা, সার্কাস পার্টি ৭০ টাকা, বিদ্যাবিনোদ কবি ভোলানাথ মজুমদার ৭০ টাকা, রামানন্দ রাম নারায়ন ৬১ টাকা, ননীবালা মল্লিক ৫৫ টাকা, সাহিত্যিক জলধর সেন রায় বাহাদুর ৫০ টাকা, আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রফুল্ল কুমার সরকার এম.এ. ৫০ টাকা, সুরেশ চন্দ্র সান্যাল ৫০ টাকা, পঞ্চানন মজুমদার ৫০ টাকা, প্রাণবল্লভ প্রামানিক ৫০ টাকা, তরুবালা কুন্ডু ৫০ টাকা, কৃতি ফুটবল খেলোয়াড় অজিত কুন্ডু ৫০ টাকা, নটরাজ মহেন্দ্র কুন্ডু ৫০ টাকা, ডাঃ রেবতী মোহন সাহা ও চার্টার একাউন্টেন্ট রবীন্দ্রনাত সাহা ১০০ টাকা, আশুতোষ ও রাধাবল্লভ কুন্ডু ৫০ টাকা, রামরুপ সাহা ৫০ টাকা, সুরেন্দ্রনাথ দাস ৫০ টাকা, যতীন্দ্রনাথ মানী ৫০ টাকা, প্রভাবতী সাহা ৫০ টাকা, কবিরাজ কে. এ. গোলাম সরোয়ার ৫০ টাকা, কুমারখালী তন্তুবায় সামাজ ৫০ টাকা, লাল মোহাম্মদ বিশ্বাস ৫০ টাকা, বৃটিশ বিরোধী নেত্রী প্রমিলা মিত্র ৫০ টাকা, নিভারানী কুন্ডু ৫০ টাকা, রক্সিবাই আগর্য়ালা ৫০ টাকা, সচীন্দ্রনাথ কুন্ডু ৫০ টাকা, আশারাম ৫০ টাকা ও বিদ্যালয়ের জমি দানে শশাঙ্ক মেখর ও সুধীর চন্দ্র জমুমদার ৫০ টাকা। এছাড়াও যাঁরা ২৫, ২০, ১৫, ১০, ৫, ২, ১ টাকা এমনকি আট আনাও দান করেছেন তাদের তালিকা প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে।
১৯৩৪ খৃষ্টাব্দে কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ের স্হায়ী ভবন নির্মিত হলে ভবনের উত্তর পার্শ্বে পৌরসভার রাস্তা সংলগ্ন বারান্দা প্রদানের প্রয়োজন হওয়ায় ততকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান ডঃ প্রমথনাথ চক্রবর্তী পৌর অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে বারান্দা নির্মানের জমি দান করেন এবং পৌরসভার অর্থে বারান্দা নির্মান করে দেন বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পারিয় চাহিদা পূরণে প্রফুল্ল কুমার ঘোষ তাঁর পিতা গোপাল চন্দ্র ঘোষের স্মৃতি রক্ষার্থে ব্যক্তিগত অর্থে নলকূপ বসিয়ে দেন। বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান প্রমথনাথ চক্রবর্তী ও প্রফুল্ল কুমার ঘোষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ২১শে ডিসেম্বর এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ততকালীন নদীয়া জেলা ম্যাজিষ্ট্রট সত্যেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় আই.সি.এস প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে নবনির্মিত ভবনের দ্বারোদঘটান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কুষ্টিয়া মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট শঙ্করনাথ সেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ততকালীন সম্পাদক নন্দগোপাল কুন্ডু। পৌরসভার চেয়ারম্যান ডাঃ প্রমথনাথ চক্রবর্তী ছিলেন বিশেষ অতিথি। সকল বক্তা নদীয়া জেলার এই জনবিরল পল্লীর নিভৃত প্রান্তে ১৮৬৩ সালে মহাত্মা কৃষ্ণধন মজুমদার ও বঙ্গবিশ্রুত সাহিত্যিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদার প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। যে সকল বিদ্যোতসাহী সহৃদয় ব্যক্তি বালিকা বিদ্যালয়ের নতুন গৃহ নির্মানে অর্থ সাহায্য, পরিশ্রম, সময় ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের সকলকে ওই অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং সহায়তা অব্যহত রাখতে অনুরোধ রাখা হয়। সদাশয় গভর্ণমেন্টের উল্লেখযোগ্য সাহায্য পাওয়া যাবে বলে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আশ্বাস দেন। ১৯৩৩-৩৪ বর্ষে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা ব্যয়ে শতাব্দীকালের ঐতিহ্যবাহী ভবনটি নির্মিত হয়। যা বর্তমানে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়েও নির্মান করা সম্ভব নয়।
১৯৩৭ সালে নদীয়া জেলার স্কুল ইন্সপেক্টর কুমারখালীর প্রথম মুসলিম গ্রাজ্যুয়েট খান বাহাদুর খবির উদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পরিদর্শক পি. দাস. কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ১ মাসের নিম্মবর্ণিত তথ্য লিপিবদ্ধ করেন।
আয়ঃ
গভর্ণমেন্ট হইতে সাহায্য ২০ টাকা, মিউনিসিপ্যালিটির সাহায্য ২০ টাকা, চাঁদা ও দান ০৩ টাকা ও ছাত্রীদের বেতন ২৩ টাকা অর্থাত মোট ৬৬ টাকা।
ব্যয়ঃ
শিক্ষকদিগের বেতন ৫৯ টাকা, নৈমিত্তিক খরচ ০২ টাকা, পুস্তকাগার ০২ টাকা, পারিতোসিক ০৩ টাকা অর্থাত মোট ৬৬ টাকা।

স্কুল ইন্সপেক্টর তার মন্তব্যে লেখেন, "শিশুরা সাধারণত নারী জাতির কাছেই প্রতিপালিত হয়। নারী জাতি যেভাবে শিশুকে বুঝিতে পারে পুরুষ জাতি পারেনা। শিশুরা নির্ভয়ে নারীর কাছে মনোভাব প্রকাশ করে। সুতরাং শিশু শিক্ষা নারীর হাতেই থাকা ভাল। এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীর জন্য একজন জুনিয়র পরীক্ষোত্তীর্ণ শিক্ষয়িত্রী বিশেষ প্রয়োজন। তাহা হইলে অত্র বিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নতি হইবে বলিয়া আশা করা যায়। বিদ্যালয়ের সম্পাদক সহ পরিচালক সমিতির সভ্যগণ অত্র বিদ্যালয়ের উন্নতি সাধনে বিশেষ যত্নবান বলিয়া মনে হইল। কুমারখালী হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা তবুও ৭০ জন উপস্থিত ছাত্রীর মধ্যে ৮ জন মুসলমান দেখা গেল। এ বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করা হইল।" উল্লেখ্যদের মধ্যে কুমারখালীর কৃতি সন্তান সাহিত্যিক জোবেদা খানম ঐ সময় কৃতি ছাত্রী ছিলেন এবং তাঁর পিতা খন্দকার আজহারুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

................

মির আমজাদ আলী

সাধারণ সম্পাদক

কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরী

Last Updated on Sunday, 22 August 2010 18:23