|
বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস আজ |
|
|
|
Thursday, 06 August 2009 |
‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে/ঘরের বাঁধন যায় বুঝি আজ টুটে...।’ শ্রাবণের বরিষণে এভাবেই মুক্তির ডাক পেয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর একদিন এই শ্রাবণেরই ২২ তারিখে ঘটে তাঁর মহাপ্রয়াণ, ঘরের বাঁধন ছেড়ে তিনি চলে গেলেন অমর্ত্যলোকে। নিজের লেখা ‘সোনার তরী’ কবিতায় মানবজাতির অন্তহীন প্রগতিধারায় ব্যক্তি মানুষের স্বল্পায়ু জীবনের কীর্তি ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। নিজের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার সারা জীবনের শ্রমের যেটুকু ফসল আমি তুলে দিতে পারলাম মানব জাতির অন্তহীন প্রগতিধারায়, তারই কেবল মূল্য আছে। মৃত্যুর সাথেই আমি নিঃশেষে বিলীন হয়ে যাব প্রকৃতিতে।’
আজ বাইশে শ্রাবণ। ৬৮ বছর আগে শ্রাবণের এই দিনে তিনি মারা যান। তবে অসামান্য সব রচনার মাঝে তিনি আজও বেঁচে আছেন। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় রবীন্দ্রনাথের স্বচ্ছন্দ বিচরণ আজও আমাদের একই সঙ্গে বিস্িনত ও মুগ্ধ করে। তাঁর বিচিত্র সাহিত্যসম্ভার বাংলা ভাষাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বসভায়। আর তাই বাংলা সাহিত্যে তাঁর বিশাল অবদানকে শুধু সুর্যরশ্মির সঙ্গেই তুলনা করা যায়। সুর্যের কিরণের মতো রবীন্দ্রনাথও তাঁর অসামান্য অজস্র সাহিত্যসম্ভার দিয়ে আলোকিত করেছেন বাংলা সাহিত্যের সবগুলো শাখাকে। তিনি ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, নাটক, ভ্রমণকাহিনী, শিশুসাহিত্য, পত্রসাহিত্য, সমালোচনা-সাহিত্য তথা সবখানে সাবলীলভাবে বিচরণ করেছেন। পরিণত বয়সে ছবি এঁকে রেখেছেন অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর। শিক্ষা, শিল্পকলা, দর্শনচর্চার মাধ্যমে ঋদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে। তিনি বিশ্ব সমস্যা নিয়েও ভেবেছেন একই সঙ্গে এবং প্রবন্ধও লিখেছেন। বাংলা গানে বৈচিত্র্য আনতে তিনি দেশীয় রাগ-রাগিণীর পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন পাশ্চাত্যের বিভিন্ন সুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি...’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতও (জনগণমম অধিনায়ক...) তাঁরই লেখা। কবিগুরুর মহাপ্রয়াণ দিবসে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসুচি হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। বাংলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আজ বিকেল চারটায় আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অধ্যাপক সন্জীদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত রবীন্দ্রনাথ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করবেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ। আলোচনায় অংশ নেবেন কবি মনজুরে মওলা ও অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা। Resource:
Prothom Alo - 06-08-2009মাসুম অপু
|